জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন ২০২৬ (আপডেট তথ্য)
২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী শহিদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান ও পুনর্বাসনে বাংলাদেশ সরকার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শহিদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারা সরকারের পক্ষ থেকে এককালীন অনুদান ও মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত “জুলাই যোদ্ধা” ও শহিদ পরিবারগুলো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা নির্ধারিত গুগল ফর্মে আবেদন ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে মাসিক ভাতা ও অনুদান পাচ্ছেন। চলুন বিস্তারিত জেনে নিই কিভাবে জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন করবেন ও এই সুবিধা পেতে কি কি প্রয়োজন।
জুলাই যোদ্ধা ভাতা কী এবং কেন চালু হলো?
২০২৪ সালের জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে অনেকে শহিদ হন এবং অনেকে গুরুতর আহত হন। এই শহিদ ও আহত ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে সরকার জুলাই যোদ্ধা ভাতা কর্মসূচি চালু করেছে। জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শহিদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারা সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। শহিদদের পরিবারকে এককালীন অনুদান ও মাসিক ভাতা প্রদানের পাশাপাশি আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আহতরা ৩ ক্যাটাগরিতে ৫ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এককালীন অনুদান এবং ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত মাসিক ভাতা পাবেন। আবেদন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
জুলাই যোদ্ধা ভাতার জন্য কারা আবেদন করতে পারবেন
জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন করার জন্য নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা যোগ্য বিবেচিত হবেন:
- শহিদ পরিবার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা (স্ত্রী/স্বামী, সন্তান, পিতা-মাতা) এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
- আহত যোদ্ধা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে আহত হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন আছেন অথবা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়েছেন, এমন ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারবেন।
- নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবার: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে নিখোঁজ হয়েছেন এবং এখনও সন্ধান মেলেনি, এমন ব্যক্তিদের পরিবারও আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীদের অবশ্যই ঘটনার সত্যতা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সনদপত্র জমা দিতে হবে। মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত শহিদ ও আহতদের তালিকা চূড়ান্ত করছে।
জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন পদ্ধতি
জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন করার জন্য প্রধানত অনলাইন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। নিচে ধাপে ধাপে পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:
পদ্ধতি: অনলাইনে আবেদন
বর্তমানে জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে করা যাচ্ছে। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. প্রথমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন (moliberation.gov.bd) অথবা মন্ত্রণালয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ভিজিট করুন।
২. সাইটের হোমপেজে ‘জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন’ অথবা ‘শহিদ ও আহত যোদ্ধা ভাতা’ অপশনে ক্লিক করুন।
৩. একটি গুগল ফর্ম বা অনলাইন আবেদন ফরম খুলবে। সেখানে নিজের প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
৪. প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট (জাতীয় পরিচয়পত্র, চিকিৎসার কাগজপত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য, ছবি ইত্যাদি) স্ক্যান করে আপলোড করুন।
৫. সব তথ্য যাচাই করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন।
৬. সফল আবেদনের পর একটি আবেদন নম্বর পাবেন, যা সংরক্ষণ করুন।
আবেদন পদ্ধতি: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বা তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা গুগল ফর্মের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য (ব্যাংক হিসাব, জাতীয় পরিচয়পত্র, চিকিৎসার কাগজপত্র) জমা দিতে হবে।
ভাতার ক্যাটাগরি ও প্রাপ্য অর্থের পরিমাণ
জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন করলে আহত যোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। নিচে ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ উল্লেখ করা হলো:
| ক্যাটাগরি | আহতের ধরন | এককালীন অনুদান | মাসিক ভাতা |
|---|---|---|---|
| ক্যাটাগরি ক | মারাত্মক আহত (স্থায়ী অক্ষমতা) | ৫ লক্ষ টাকা (২ লক্ষ টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এবং ৩ লক্ষ টাকা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে) | ২০,০০০ টাকা |
| ক্যাটাগরি খ | মাঝারি আহত (দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন) | ৩ লক্ষ টাকা (১ লক্ষ টাকা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এবং ২ লক্ষ টাকা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে) | ১৫,০০০ টাকা |
| ক্যাটাগরি গ | সাধারণ আহত (স্বল্পমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন) | ১ লক্ষ টাকা | ১০,০০০ টাকা |
শহিদ পরিবারের জন্য ভাতা:
শহিদ পরিবারগুলো ৩০ লক্ষ টাকা এককালীন অনুদান (১০ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যে প্রদান করা হয়েছে এবং ২০ লক্ষ টাকা পরবর্তীতে প্রদান করা হবে) এবং ২০,০০০ টাকা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। নিবন্ধিত জুলাই যোদ্ধাদের ভাতার টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। তথ্যের ভুল থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে সমাধান করা হচ্ছে।
আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন করার সময় নিম্নলিখিত কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে:
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি – আবেদনকারীর নিজের স্মার্ট এনআইডি কার্ডের ফটোকপি (শহিদ পরিবারের ক্ষেত্রে শহিদ ব্যক্তির এনআইডি ও আবেদনকারীর এনআইডি)।
- চিকিৎসার কাগজপত্র – আহত যোদ্ধাদের ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তির রেকর্ড, চিকিৎসকের রিপোর্ট, প্রেসক্রিপশন ইত্যাদি।
- মৃত্যু সনদ – শহিদ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রদত্ত মৃত্যু সনদ।
- শহিদের সনদপত্র – স্থানীয় প্রশাসন বা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রদত্ত শহিদের সনদপত্র (যদি থাকে)।
- দাফনের সনদ – শহিদ ব্যক্তির দাফন সংক্রান্ত কাগজপত্র।
- ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য – আবেদনকারীর নিজ নামে সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর (ভাতার টাকা সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে)।
- সাম্প্রতিক ছবি – পাসপোর্ট সাইজের ২ কপি রঙিন ছবি।
- সচল মোবাইল নম্বর – নিজ নামে রেজিস্ট্রিকৃত মোবাইল নম্বর।
- সম্পর্কের প্রমাণপত্র – শহিদ পরিবারের ক্ষেত্রে শহিদের সাথে আবেদনকারীর সম্পর্কের প্রমাণপত্র (বিয়ে রেজিস্ট্রি, জন্ম সনদ ইত্যাদি)।
জুলাই যোদ্ধাদের জন্য অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা
শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, জুলাই যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য সরকার আরও কিছু বিশেষ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন করলে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে:
- আইডি কার্ড: জুলাই যোদ্ধা হিসেবে বিশেষ আইডি কার্ড প্রদান করা হবে, যা দিয়ে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা গ্রহণ করা যাবে।
- বিনামূল্যে চিকিৎসা: আহত যোদ্ধারা আজীবন সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।
- প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন: আহত যোদ্ধাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে তারা স্বাবলম্বী হতে পারেন।
- শিক্ষা সুবিধা: শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
- চাকরির সুযোগ: সরকারি চাকরিতে জুলাই যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য বিশেষ কোটার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
- সম্মাননা: বিভিন্ন জাতীয় দিবসে জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবারকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হবে।
সুযোগ-সুবিধা: আহত যোদ্ধারা আইডি কার্ড, আজীবন সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা, প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন সুবিধা পাবেন।
জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন ফরম পূরণের নিয়ম
জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন ফরম অনলাইনে পূরণ করার সময় নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন:
প্রথম ধাপ: ব্যক্তিগত তথ্য অংশ
- আবেদনকারীর সম্পূর্ণ নাম (ইংরেজি ও বাংলায়) লিখুন, যা এনআইডি কার্ডের সাথে মিলবে।
- পিতা/স্বামীর নাম ও মাতার নাম সঠিকভাবে লিখুন।
- জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ সঠিকভাবে প্রদান করুন।
- লিঙ্গ, ধর্ম, বৈবাহিক অবস্থা নির্বাচন করুন।
- মোবাইল নম্বর ও ইমেইল আইডি (যদি থাকে) প্রদান করুন।
দ্বিতীয় ধাপ: আবেদনের ধরন নির্বাচন
- আপনি শহিদ পরিবারের সদস্য নাকি আহত যোদ্ধা, তা নির্বাচন করুন।
- শহিদ পরিবারের সদস্য হলে শহিদের সাথে আপনার সম্পর্ক নির্বাচন করুন (স্ত্রী/স্বামী, সন্তান, পিতা, মাতা)।
- আহত যোদ্ধা হলে আপনার আহত হওয়ার তারিখ ও স্থান উল্লেখ করুন।
তৃতীয় ধাপ: ঘটনার বিবরণ
- জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আপনার/শহিদের অংশগ্রহণের বিবরণ দিন।
- আহত/শহিদ হওয়ার সময়, স্থান ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত লিখুন।
- সাক্ষীদের নাম ও ঠিকানা (যদি থাকে) উল্লেখ করুন।
চতুর্থ ধাপ: চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য
- আহত যোদ্ধাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা নেওয়া হাসপাতালের নাম, ঠিকানা ও চিকিৎসকের নাম উল্লেখ করুন।
- চিকিৎসার সময়কাল ও বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে লিখুন।
- চিকিৎসার কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন।
পঞ্চম ধাপ: ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য
- আপনার নিজ নামে সচল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নাম, শাখা, রুটিং নম্বর ও অ্যাকাউন্ট নম্বর সঠিকভাবে দিন।
- অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করুন।
ষষ্ঠ ধাপ: ডকুমেন্ট আপলোড
- প্রয়োজনীয় সকল ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি নির্দিষ্ট সাইজে আপলোড করুন।
সপ্তম ধাপ: চূড়ান্ত জমাদান
- সব তথ্য সঠিক আছে কিনা যাচাই করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন।
- আবেদনের একটি কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন এবং আবেদন নম্বরটি নোট করে রাখুন।
জুলাই যোদ্ধা ভাতা সংক্রান্ত
জুলাই যোদ্ধা ভাতা পেতে কখন আবেদন করতে হবে?
জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখনও আবেদন করা সম্ভব। তবে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব আবেদন করা উচিত।
অনলাইনে জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদনের ওয়েবসাইট কোনটি?
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (moliberation.gov.bd) এবং তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে আবেদন করা যাচ্ছে।
জুলাই যোদ্ধা ভাতা কত টাকা দেওয়া হয়?
আহত যোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে ১ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা এককালীন অনুদান এবং ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। শহিদ পরিবার পায় ৩০ লক্ষ টাকা এককালীন অনুদান ও ২০ হাজার টাকা মাসিক ভাতা।
ভাতার টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে?
আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে ভাতার টাকা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রেরণ করা হবে।
শহিদ পরিবারের কে আবেদন করতে পারবেন?
শহিদের স্ত্রী/স্বামী, সন্তান, পিতা বা মাতা আবেদন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে শহিদের সাথে সম্পর্কের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
আবেদনের পর কত দিনের মধ্যে ভাতা পাওয়া যাবে?
আবেদন জমা দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাই হতে কিছু সময় লাগে। সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ভুল তথ্য দিলে কী হবে?
আবেদনে কোনো ভুল তথ্য পাওয়া গেলে আবেদন বাতিল হতে পারে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তাই সঠিক তথ্য দেওয়া জরুরি।
শেষ কথা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহত যোদ্ধাদের জন্য সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শহিদ পরিবার ও আহত যোদ্ধারা সরকারের পাশে থাকার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন। শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়, পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও সম্মাননার মাধ্যমে তাদের জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।
আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ বা আহত হয়ে থাকেন, তাহলে দেরি না করে আজই জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করুন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে নির্ভুল তথ্য দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করুন। প্রয়োজনে স্থানীয় প্রশাসন বা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তা নিন।
আশা করি, জুলাই যোদ্ধা ভাতা আবেদন সংক্রান্ত এই বিস্তারিত আলোচনা থেকে আপনি প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পেয়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিটি শহিদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি এবং আহত যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা ও সম্মানজনক জীবন কামনা করি।
বরাবর,
তারিখ:
সচিব,
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়/ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ (জুলাই উইং),
বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
বিষয়: জুলাই-আগস্ট ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তি ও সহায়তার জন্য আবেদন।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি মোঃ আশিক, পিতা: মোঃ আবু ছাইদ, ঠিকানা: গ্রামঃ পূর্ব পাণ্ডলী পোঃ তিলাটিয়া, থানাঃ তারাকান্দা, উপজেলাঃ তারাকান্দা, জেলাঃ ময়মনসিংহ। জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে একজন সক্রিয় আন্দোলনকারী হিসেবে অংশগ্রহণ করি। গত ০৩-০৮-২০২৪ ইং তারিখে স্থান মাওনা এলাকায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হামলা ও গুলিবর্ষণে আমি গুরুতর আহত হই।
আহত হওয়ার পর ০৭-০৮-২০২৪ ইং তারিখে আমি ল্যাব সেন্টার ময়মনসিংহ-এ জরুরি বিভাগে চিকিৎসা গ্রহণ করি এবং
পরবর্তীতে যদি দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা গ্রহণ করি। বর্তমানে আমি আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা
যেমন: আমার শরীরের এখনও সিটা গুলি আছে। হাত, পা, মাথা, শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যাথা করার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও কর্মক্ষমতা হারিয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এমতাবস্থায় আমি আরও শাপলা হসপিটাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শ্রীপুর, গাজীপুর চিকিৎসা গ্রহন করি। আমাকে কোন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তি করা হয়নি। কোন সরকারি আর্থিক ও সহায়তা পায়নি কার আমি ভয়ে কোন কাগজ পত্র সরকারি ভাবে জমা দেয়নি। কিন্তু বর্তমান আমার শারীরিক অবস্থা খবি খারাপ।
এমতাবস্থায়, আমাকে এই ঐতিহাসিক আন্দোলনের একজন আহত যোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা, সরকারি গেজেটভুক্তকরণ এবং আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনার সদয় মর্জি হয়।
সংযুক্ত:
১. হাসপাতালের ছাড়পত্র (Discharge Summary) বা মেডিকেল প্রেসক্রিপশন।
২. এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা বুলেটের আঘাতের প্রমাণক।
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধনের অনুলিপি।
বিনীত,
মোঃ আশিক
মোবাইল নম্বর: 01968-885775
কর্মষেত্রে আমরা যারা আহত আমাদের প্রতিদিন অফিস করা কঠিণ কারন থেরাপি নিতে হয়, আবার বিভিন্ন রোগ ধরে , সরকারী চাকুরীতে ৫ দিন অফিস , সরকারী হাসমপাতাল ও ৫ দিন তাহলে আমরা কি কোন সুযোগ পেতে পারি না।
নাম মোঃ আপন শেখ জেলা সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা সিরাজগঞ্জ