বিধবা ভাতা আবেদন ২০২৬ (আপডেট তথ্য)
আপনি বা আপনার পরিবারের কোন বিধবা বা স্বামী নিগৃহীতা মহিলার জন্য বিধবা ভাতার আবেদন অনলাইনে করতে পারেন। দেখুন কিভাবে আবেদন করবেন ও কি কি লাগবে। বাংলাদেশে সমাজের অসহায় ও দুর্বল নারীদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। তারই অংশ হিসেবে বিধবা ভাতা আবেদন প্রক্রিয়াটিকে অনেক সহজ ও ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। বর্তমানে ঘরে বসে খুব সহজেই অনলাইনে এই ভাতার জন্য আবেদন করা যায়।
বিধবা ভাতা হচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো স্বামীহারা অসচ্ছল নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। চলুন জেনে নিই কীভাবে আপনি এই সুবিধা নিতে পারেন।
বিধবা ভাতা কি এবং কবে চালু হয়?
আসুন প্রথমে সংক্ষেপে জেনে নিই, বিধবা ভাতা কি এবং বিধবা ভাতা কবে চালু হয়। বিধবা ভাতা হলো বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি সামাজিক ভাতা যা বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা অসচ্ছল মহিলাদের প্রদান করা হয়। এই ভাতাকে সরকারি ভাষায় “বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা” কর্মসূচি বলা হয়।
১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে তৎকালীন সরকার সমাজসেবা অধিদফতরের মাধ্যমে প্রথম এই ভাতা কর্মসূচি চালু করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সমাজের সবচেয়ে দুর্বল ও অসহায় নারীদের, যারা জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হন, তাদেরকে একটি ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়া। সময়ের সাথে সাথে এই কর্মসূচির পরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে স্মার্ট বাংলাদেশের অংশ হিসেবে বিধবা ভাতা আবেদন প্রক্রিয়াটিকে অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে।
আপডেট: আপাতত বিধবা ভাতা আবেদন চালু হয়নি। চালু হলে জানিয়ে দেয়া হবে।
বিধবা ভাতা আবেদন করার নিয়ম
বর্তমানে বিধবা ভাতা আবেদন করার জন্য আপনাকে আর ইউনিয়ন পরিষদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফরম সংগ্রহ করতে হবে না। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলেই আপনি সহজেই আবেদন করতে পারবেন:
বিধবা ভাতা আবেদন করতে প্রথমে https://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication এই লিংকে গিয়ে সকল ব্যক্তিগত তথ্য সঠিকভাবে দিয়ে আবেদন করতে হবে। অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন হলে তার একটি প্রিন্ট কপি বের করে নিন। এই প্রিন্ট কপিতে নিজ এলাকার ওয়ার্ড মেম্বার/ কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সুপারিশ নিতে হবে। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্রটি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জমা দিতে হবে।
মনে রাখবেন, বিধবা ভাতা আবেদন কর্মসূচিতে আবেদনের জন্য স্বামীর মৃত্যু সনদ বাধ্যতামূলক এবং আবেদনকারীর বার্ষিক গড় আয় অনধিক ১০,০০০ টাকা হতে হবে। ইতোমধ্যে যারা এই ভাতা পাচ্ছেন, তাদের নতুন করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন:
বিধবা ভাতা আবেদন করতে কি কি লাগে
বিধবা ভাতা আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার আগে নিচের কাগজপত্রগুলো প্রস্তুত রাখলে কাজ অনেক সহজ হবে। বিধবা ভাতা আবেদন করতে কি কি লাগে তা নিচে তালিকা আকারে দেওয়া হলো:
- জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি: আবেদনকারীর স্মার্ট এনআইডি কার্ড বা ১০ ডিজিটের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি।
- স্বামীর মৃত্যুর সনদ: স্বামীর মৃত্যুর সনদ বা ডেথ সার্টিফিকেট (Death Certificate) অবশ্যই লাগবে। এটি ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি: আবেদনকারীর ২ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, যা সম্প্রতি তোলা।
- সচল মোবাইল নাম্বার: ভবিষ্যতে যোগাযোগের জন্য একটি সচল মোবাইল নাম্বার।
- মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট: আবেদনকারীর নামে বিকাশ, নগদ, রকেট বা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। ভাতার টাকা এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
- পূরন করা আবেদন ফরম: ওয়েবসাইট থেকে প্রিন্ট করে নেওয়া বিধবা ভাতা আবেদন ফরম।
প্রয়োজনের ভিত্তিতে এলাকার প্রশাসন অতিরিক্ত কিছু কাগজপত্র চাইতে পারে, যা আপনাকে সরবরাহ করতে হবে।
বিধবা ভাতা আবেদন ফরম অনলাইনে পূরণ করার নিয়ম
অনলাইনে বিধবা ভাতা আবেদন ফরম অনলাইনে পূরণ করার নিয়ম নিচে ধাপে ধাপে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
ধাপ ১: ভাতা আবেদন ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন
প্রথমেই সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ঠিকানা https://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication -এ প্রবেশ করুন। ওয়েবসাইটটি খুললে আপনার সামনে একটি ফর্ম আসবে। সেখানে ‘কার্যক্রম’ অপশন থেকে ‘বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা ভাতা’ সিলেক্ট করুন।
ধাপ ২: এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ যাচাই করুন
এবার ‘ব্যক্তিগত তথ্য’ অংশে আপনার ১৭ ডিজিটের স্মার্ট এনআইডি কার্ড নম্বর বা ১০ ডিজিটের এনআইডি নম্বর ইংরেজিতে সঠিকভাবে লিখুন। এরপর আপনার জন্মতারিখ সিলেক্ট করে ‘যাচাই করুন’ বাটনে ক্লিক করুন। আপনার তথ্য সঠিক থাকলে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন।
ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন
এনআইডি যাচাইয়ের পর শিক্ষাগত যোগ্যতা, বৈবাহিক অবস্থা, পেশা, বার্ষিক আয় ও বাসস্থান সংক্রান্ত তথ্যগুলো নির্ভুলভাবে পূরণ করতে হবে।
ধাপ ৪: ঠিকানা ও মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট নম্বর দিন
এখন আপনাকে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সিলেক্ট করতে হবে। বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ক্রমান্বয়ে সিলেক্ট করুন। ওয়ার্ড সিলেক্ট করার পর আপনার এলাকায় কোন মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ভাতা দেওয়া হয়, তা দেখাবে (যেমন- বিকাশ, নগদ, রকেট)। আপনার সেই নির্দিষ্ট মোবাইল ব্যাংকিং সেবার একটি সক্রিয় অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে হবে। যদি অ্যাকাউন্ট না থাকে, তাহলে দ্রুত একটি খুলে নিন।
ধাপ ৫: অন্যান্য তথ্য পূরণ ও আবেদন সংরক্ষণ করুন
সবশেষে বিধবা ভাতা আবেদনের যোগ্যতা ও শর্ত সম্পর্কিত কিছু তথ্য দিতে হবে। সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে নিচের ডান পাশের ‘সংরক্ষণ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৬: বিধবা ভাতা আবেদন ফরম pdf download ও প্রিন্ট কপি নিন
তথ্য সংরক্ষণের পর ‘আবেদন প্রিন্ট করুন’ বাটনে ক্লিক করে আবেদন ফর্মটি ডাউনলোড করে নিন এবং এর একটি প্রিন্ট কপি বের করুন।
ধাপ ৭: আবেদন জমা দিন
প্রিন্ট করা বিধবা ভাতা আবেদন ফরমে আপনার ওয়ার্ড মেম্বার, কাউন্সিলর বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও সুপারিশ নিন। এরপর ছবি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ফর্মটি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করে রাখুন।
বিধবা ভাতা কারা পাবে
বিধবা ভাতা কারা পাবে তা নির্ধারণের জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। মূলত যেসব নারী স্বামীহারা এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছল, তারাই এই ভাতার প্রধান প্রাপক।
- বিধবা মহিলা যিনি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি।
- স্বামী কর্তৃক পরিত্যক্তা বা নিগৃহীতা নারী (বিবাহিত, বর্বিত, বৈদিক ইত্যাদি শ্রেণীর)।
- পরিবারের বার্ষিক গড় আয় ১০,০০০ টাকার নিচে হতে হবে।
- আবেদনকারীর বয়স সাধারণত ১৮ বছরের বেশি হতে হবে (কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে তারতম্য হতে পারে)।
তবে স্বামী মারা যাওয়ার পরও যদি কারো পরিবারের অবস্থা আর্থিকভাবে বেশ সচ্ছল হয়, যেমন- পরিবারের সদস্যরা উচ্চ বেতনের চাকরি করেন অথবা বড় ব্যবসা আছে, তবে তিনি এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
বিধবা ভাতায় কত টাকা দেয়া হয় এবং কিভাবে পাবেন
বর্তমানে সরকার বিধবা ভাতায় কত টাকা দেয়া হয়? বাংলাদেশে একজন বিধবা বা স্বামী নিগৃহীতা মহিলাকে মাসিক ৫০০ টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়। এই টাকা সরাসরি ভাতাভোগীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে (বিকাশ, নগদ, রকেট) প্রেরণ করা হয়।
আগে বিধবা ভাতা কিভাবে সংগ্রহ করতে হয় এই প্রশ্নের উত্তর ছিল ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে। কিন্তু এখন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়ায় খুব সহজেই ঘরে বসে মোবাইল থেকেই টাকা উঠিয়ে নেওয়া সম্ভব। এর ফলে ভাতাভোগীদের সময় ও খরচ দুটোই বেঁচে যায়।
বিধবা ভাতা সম্পর্কিত- FAQ’s
বিধবা ভাতা হিসেবে কত টাকা দেয়া হয়?
একজন বিধবা বা স্বামী নিগৃহীতা মহিলাকে মাসিক ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়।
বিধবা ভাতা কিভাবে সংগ্রহ করতে হয়?
বর্তমানে ভাতার টাকা সরাসরি ভাতাভোগীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে (বিকাশ, নগদ) পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তিনি তা সংগ্রহ করতে পারেন।
বিধবা ভাতা কারা পাবে?
আর্থিকভাবে অসচ্ছল বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলা, যার বার্ষিক আয় ১০,০০০ টাকার নিচে এবং তিনি পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি, তিনি এই ভাতা পাবেন।
অনলাইনে বিধবা ভাতা আবেদনের ওয়েবসাইট কোনটি?
অনলাইনে বিধবা ভাতা আবেদনের ওয়েবসাইট হলো https://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication
বিধবা ভাতা চালু হয় কত সালে?
বিধবা ভাতা চালু হয় ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে।
শেষ কথা
আশা করি, বিধবা ভাতা আবেদন সংক্রান্ত এই বিস্তারিত আলোচনা থেকে আপনি প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পেয়েছেন। আপনার এলাকার কোনো অসহায় বিধবা বা স্বামী নিগৃহীতা মহিলা থাকলে, তাকে এই সরকারি সুবিধা পাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করুন। দেশের এমন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব।