প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম ২০২৬ ( আপডেট তথ্য)
অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করে এখন ঘরে বসেই সরকারি আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন। ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনে দৌড়াদৌড়ি করে সময় নষ্ট করতে হবে না। এছাড়াও অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন করার পর তা যাচাই বাছাই করে আপনার আবেদন অনুমোদিত হলে ঘরে বসেই মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধমে ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।
আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে আলোচনা করবো ২০২৬ সালের প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করার নিয়ম নিয়ে। পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়লে অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তো চলুন পোস্টের মূল বিষয়ে ফিরে আসা যাক।
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম কী ও কেন প্রয়োজন?
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম হচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন একটি সরকারি আবেদনপত্র, যা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরকারি ভাতা পাওয়ার জন্য পূরণ করতে হয়। বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এই ভাতা কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে।
২০১৩ সালের ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন’ এর আওতায় এই ভাতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম অনলাইনে পূরণের সুবিধা চালু করা হয়েছে, যা আবেদন প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ ও দ্রুততর করেছে।
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদনের যোগ্যতা
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করার আগে অবশ্যই জেনে নিতে হবে যে আপনি এই ভাতা পাওয়ার জন্য যোগ্য কিনা। নিচে যোগ্যতার শর্তগুলো উল্লেখ করা হলো:
- স্থায়ী ঠিকানা থেকে ভাতার জন্য আবেদন করতে হবে
- সমাজসেবা কার্যালয় থেকে নিবন্ধন ও প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে
- স্থায়ী ঠিকানা হতে নিবন্ধন ও পরিচয় পত্র সংগ্রহ করতে হবে
- বার্ষিক আয় ৩৬,০০০ টাকার কম হলে আবেদন করতে পারবেন
- ৬ বছর বয়সের বেশি বয়সীদের এই ভাতা প্রদান করা হবে
- সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক সুপারিশ প্রাপ্ত হতে হবে
উপরোক্ত বিষয়গুলো থাকলে আপনি প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করে ভাতা পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হতে পারবেন। এরপর, ঘরে বসেই ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।


প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করতে যা যা লাগবে
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম অনলাইনে পূরণ করার জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্র ও তথ্যগুলো আগে থেকে প্রস্তুত রাখলে কাজ অনেক সহজ হবে:
| প্রয়োজনীয় কাগজপত্র | বিস্তারিত |
|---|---|
| জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয় পত্র | আবেদনকারীর নিজের স্মার্ট এনআইডি কার্ড বা ১০ ডিজিটের এনআইডি |
| প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সুবর্ণ নাগরিক কার্ড | সমাজসেবা অফিস থেকে প্রাপ্ত প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র |
| একটি সচল মোবাইল নাম্বার | বিকাশ ও নগদ একাউন্ট সহ মোবাইল নম্বর |
| পাসপোর্ট সাইজের ছবি | আবেদনকারীর সাম্প্রতিক ২ কপি রঙিন ছবি |
| চেয়ারম্যান/মেয়রের সুপারিশপত্র | ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রাপ্ত সুপারিশ |
উপরোক্ত এই জিনিসগুলো প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণের সময় প্রয়োজন হবে। তো চলুন, দেখে নেয়া যাক, প্রতিবন্ধী ভাতা অনলাইন আবেদন করার নিয়ম কী কী।
অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন করার নিয়ম
অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করার জন্য https://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication এই ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। এটি সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট। এই ওয়েবসাইট থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ভিজিট করার পর নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: ওয়েবসাইট ভিজিট ও কার্যক্রম নির্বাচন
ওয়েবসাইটে ভিজিট করার পর ‘কার্যক্রম’ লেখার নিচের ড্রপ-ডাউন মেনু থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা অপশন নির্বাচন করুন এবং সংরক্ষণ বাটনে ক্লিক করুন।
ধাপ ২: এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন তথ্য যাচাই
এবার আপনি জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে আবেদন করতে চান, নাকি জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে সেটি বাছাই করুন। অতঃপর, জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার এবং জন্ম তারিখ লিখুন। জন্ম নিবন্ধন দিয়ে আবেদন করলে জন্ম সনদের নাম্বার ও জন্ম তারিখ লিখতে হবে। এরপর, ‘যাচাই করুন’ বাটনে ক্লিক করবেন।
ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ
আপনার দেয়া এনআইডি কার্ডের তথ্য বা জন্ম সনদের প্রায় সকল তথ্য দেখতে পাবেন। যেসব তথ্য দেখা যাবে না, সেগুলো নিজে পূরণ করে দিবেন। অতঃপর, পরবর্তী ধাপে যাবেন।
ধাপ ৪: প্রতিবন্ধী সংক্রান্ত অতিরিক্ত তথ্য প্রদান
এই ধাপে যে ব্যক্তির জন্য আবেদন করছেন, তার অতিরিক্ত কিছু তথ্য দিতে হবে। এগুলো হচ্ছে:
- শিক্ষাগত যোগ্যতা
- বৈবাহিক অবস্থা
- পেশা
- বার্ষিক আয়
- পরিবারের সদস্য সংখ্যা
- ভূমির পরিমাণ
- বাসস্থান তথ্য
- প্রতিবন্ধিতার ধরণ ও মাত্রা
এসব তথ্য পূরণ করে আবারও পরবর্তী ধাপে যাবেন।
ধাপ ৫: যোগাযোগের তথ্য যুক্ত করা
এবার যোগাযোগের তথ্য যুক্ত করতে হবে। যে ব্যক্তির জন্য আবেদন করছেন, তার একটি সচল মোবাইল নাম্বার, আবেদনের ঠিকানা, ই-মেইল অ্যাড্রেস (যদি থাকে) পূরণ করে দিতে হবে। মোবাইল নাম্বারটি অবশ্যই বিকাশ বা নগদ একাউন্টের সাথে সংযুক্ত হতে হবে, কারণ ভাতার টাকা এই নাম্বারেই পাঠানো হবে।
ধাপ ৬: তথ্য যাচাই ও সংরক্ষণ
সব তথ্য পূরণ完成后 পুনরায় যাচাই করে দেখুন কোনো ভুল আছে কিনা। অতঃপর, ‘সংরক্ষণ করুন’ বাটনে ক্লিক করে আবেদন করবেন। আবেদন করার পর কোনো তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন না। তাই, সব তথ্য যাচাই করে এরপর আবেদন সাবমিট করবেন।
ধাপ ৭: প্রিন্ট কপি সংগ্রহ
আবেদন সাবমিট হয়ে গেলে আবেদনটি প্রিন্ট করার অপশন পাবেন। প্রিন্ট বাটনে ক্লিক করে আবেদনটি প্রিন্ট করে নিবেন। যদি আপনার কম্পিউটারে প্রিন্টার না থাকে, তবে পিডিএফ ফাইল সংগ্রহ করে নিতে পারেন। এরপর, সেটি কোনো দোকান থেকে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।
ধাপ ৮: চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর ও অফিসে জমা
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম এর প্রিন্ট কপিটি এলাকার চেয়ারম্যান বা মেয়রকে দিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিন। এরপর, উক্ত আবেদনের কপিটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জমা দিতে হবে।
এরপর, আপনার সব তথ্য যাচাই করে যদি আবেদন অনুমোদিত হয়, তবে আপনি পরবর্তী সময় থেকে আপনার দেয়া বিকাশ/নগদ মোবাইল নাম্বারে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা গ্রহণ করতে পারবেন।
আরো পড়ুনঃ
প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা ও কিভাবে পাবেন
পূর্বে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রতি মাসে ৭৫০ টাকা করে ছিল। কিন্তু, বর্তমানে প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করা হয়েছে। যা মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে সরাসরি ভাতাভোগীর মোবাইল অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে।
একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ভাতা পেলে প্রতি বছর মোট ১০,২০০ টাকা পাবেন। এই টাকা সাধারণত তিন মাস বা ছয় মাস পর পর একসাথে প্রদান করা হয়। মনে রাখবেন, আপনি যদি সরকার কর্তৃক অন্য কোনো ভাতা পেয়ে থাকেন বা পাচ্ছেন তবে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করার প্রয়োজন নেই। আবেদন করলেও উক্ত আবেদন অনুমোদিত হবে না।
অনলাইনে প্রতিবন্ধি পরিচয় পত্র বা আইডি কার্ড আবেদন ২০২৬
প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন ও সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩’ প্রণয়ন করা হয়েছে। উক্ত আইনের ৩১(১) ধারায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নিবন্ধন ও পরিচয় পত্র প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে।
সে লক্ষ্যে, প্রতিবন্ধিতার ধরন চিহ্নিতকরণ, মাত্রা নিরূপণ ও কারণ নির্দিষ্টপূর্বক প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী’র সঠিক পরিসংখ্যান নির্ণয়ের নিমিত্ত ২০১৩ সাল হতে শুরু করে নিয়মিত জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহের জন্য ওয়েববেইজড এ্যাপ্লিকেশনসহ Disability Information System (www.dis.gov.bd) ডাটাবেইজ প্রস্তুত করা হয়েছে যা নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে।
প্রতিবন্ধি পরিচয় পত্র বা আইডি কার্ড প্রাপ্তির জন্য অনলাইনে আবেদনের নির্দেশনা:
- ১. আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- ২. শুধুমাত্র প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির পক্ষে তার অভিভাবক অথবা কোন সংস্থা এই সাইট ব্যবহার করবেন।
- ৩. আবেদনকারীর জন্মনিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে।
- ৪. প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম এর মধ্যে আবেদনকারীর স্বাক্ষর এর জায়গায় স্বাক্ষর স্ক্যান করে বসাতে হবে।
- ৫. ভ্যালিড মোবাইল নম্বর এবং ই-মেইল এড্রেস থাকতে হবে।
- ৬. অনলাইন আবেদন ফরমটি আবেদনকারীর বর্তমান ঠিকানায় সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কার্যালয়ে দাখিল হবে।
- ৭. সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কার্যালয় হতে প্রদত্ত সময় অনুযায়ী ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাজির হতে হবে।
- ৮. ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য হাজির হবার সময় অনলাইন আবেদন ফরম সাবমিটের প্রেক্ষিতে প্রাপ্ত প্রিন্টেড কপি সাথে আনতে হবে।
- ৯. সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কার্যালয় হতে এসএমএস পাওয়ার পর পরিচয় পত্র (আইডি কার্ড) সংগ্রহ করতে হবে।
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্টের নিয়ম
অনেকেই প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম ডাউনলোড কোথায় পাবেন তা জানতে চান। নিচে ডাউনলোড ও প্রিন্টের সহজ পদ্ধতি দেওয়া হলো:
- প্রথমে https://mis.bhata.gov.bd/onlineApplication ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন
- ‘কার্যক্রম’ অপশন থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা নির্বাচন করুন
- আবেদন প্রক্রিয়া শেষে ‘আবেদন প্রিন্ট করুন’ বাটনে ক্লিক করুন
- পিডিএফ ফাইল হিসেবে ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন
- পরে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিন্ট করে নিন
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রতিবন্ধী ভাতা কত টাকা দেয়া হয়?
বর্তমানে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের মাসিক ভাতা ৮৫০ টাকা। যা বছরে মোট ১০,২০০ টাকা।
প্রতিবন্ধী কত প্রকার ও কি কি?
প্রতিবন্ধী প্রধানত নিম্নলিখিত প্রকারে বিভক্ত:
শারীরিক প্রতিবন্ধী
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী
শ্রবণ প্রতিবন্ধী
বাক প্রতিবন্ধী
বুদ্ধি প্রতিবন্ধী
বহুবিধ প্রতিবন্ধী
অটিজম বা মানসিক প্রতিবন্ধী
প্রতিবন্ধী সনদ কিভাবে ও কোথায় পাওয়া যায়?
জেলা সমাজসেবা অফিস বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে প্রতিবন্ধী সনদ পাওয়া যায়। এছাড়াও www.dis.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আবেদন করে প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা যায়।
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম কোথায় পাব?
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট mis.bhata.gov.bd থেকে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারবেন। এছাড়া উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকেও ফরম সংগ্রহ করা যায়।
প্রতিবন্ধী ভাতা পেতে কত দিন সময় লাগে?
আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত ৩০ থেকে ৬০ দিন সময় লাগে। আবেদন অনুমোদিত হলে পরবর্তী অর্থবছর থেকে ভাতা প্রদান শুরু হয়।
ভাতা পাওয়ার পর কি নবায়ন করতে হবে?
হ্যাঁ, নির্ধারিত সময় পরপর ভাতা কার্যক্রম নবায়নের প্রয়োজন হতে পারে। এক্ষেত্রে পুনরায় প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে কি না তা সময়মতো সমাজসেবা অফিস থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।
প্রশ্ন ৭: কখন প্রতিবন্ধী ভাতার আবেদন শুরু হয়?
বছরের যেকোনো সময় আপনি প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন না। অনলাইনে প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন কখন শুরু হবে তার খোঁজ রাখতে হবে। সাধারণত আগস্ট মাসের দিকে আবেদন শুরু হয়ে থাকে। তাই নিয়মিত সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট ও স্থানীয় অফিসের সাথে যোগাযোগ রাখুন।
আমাদের শেষ কথা
শেষ কথা
প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করে সরকারি এই আর্থিক সহায়তা পাওয়া এখন অনেক সহজ হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় ঘরে বসেই খুব সহজে এই ভাতার জন্য আবেদন করা সম্ভব হচ্ছে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের জীবনমান উন্নয়নে ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। আপনি যদি কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হন অথবা আপনার পরিবারে কোনো প্রতিবন্ধী সদস্য থাকেন, তাহলে দেরি না করে আজই প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম পূরণ করে সরকারি এই সুবিধা গ্রহণ করুন।
আবেদনের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে নিকটস্থ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়াও, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে থাকে।
আশা করি, প্রতিবন্ধী ভাতা আবেদন ফরম সংক্রান্ত এই বিস্তারিত আলোচনা থেকে আপনি প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পেয়েছেন। দেশের প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি যাতে সরকারি এই সুবিধা পায়, সে ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।