৭০ লাখ ছাত্রী পাবে বৃত্তি, ল্যাপটপ পাচ্ছে ৪০ হাজার মেধাবী
মেয়েদের পড়াশোনা যেন মাঝপথে থেমে না যায়, সে লক্ষ্যে দেশের প্রায় ৭০ লাখ ছাত্রীকে বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর জন্য রাখা হচ্ছে ৪ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি এ বছর গোল্ডেন জিপিএ পাওয়া প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থীর প্রত্যেকে পাবে একটি করে ল্যাপটপ।
গত ১০ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের কার্যবিবরণীতে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বাসস।
ল্যাপটপ দেওয়ার উদ্দেশ্য সম্পর্কে মন্ত্রণালয় বলছে, শিক্ষার্থীরা যেন প্রযুক্তির সঙ্গে আরও ভালোভাবে পরিচিত হয় এবং আধুনিক পড়াশোনায় পিছিয়ে না পড়ে। তবে কবে ল্যাপটপ দেওয়া হবে, কারা ঠিক যোগ্য হবে, কোন প্রক্রিয়ায় বিতরণ হবে এসব এখনো জানানো হয়নি।
বৈঠকে শিক্ষা বাজেট নিয়েও কথা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুল খালেক জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এই বিভাগের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট ৫৭ হাজার ৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, যা আগের সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ৪২.৭ শতাংশ বেশি।
অবসরে যাওয়া শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। অনেকে বছরের পর বছর অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য ঘুরছেন। এই সংকট কমাতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তার কথা বলা হয়েছে। প্রথম ধাপে প্রত্যেক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গড়ে পাঁচ লাখ টাকা করে পেতে পারেন। এ ছাড়া ইএফটি ও আইবাস++ পদ্ধতিতে প্রায় ৭০ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীর বকেয়া সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো শুরু হয়েছে।
যেসব নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান সব শর্ত পূরণ করেছে, আর যেসব শিক্ষক বছরের পর বছর বেতন ছাড়া পড়াচ্ছেন, তাঁদের দ্রুত এমপিওভুক্ত করার সুপারিশ করেছে কমিটি। সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদী ও মো. মুজিবুর রহমান বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। মন্ত্রণালয়ে ফাইল আটকে থাকার সমস্যাও কমানোর তাগিদ দেওয়া হয়।
কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়ার মতে, পাসের হার বাড়ালেই শিক্ষার উন্নতি হয় না, শিক্ষার্থীরা আসলে কী শিখছে সেটাই বড় কথা। তাই বছর শেষের মূল্যায়নের পাশাপাশি তিন বা ছয় মাস পরপর শিখন যাচাইয়ের প্রস্তাব এসেছে। কমিটির সদস্য রেজা কিবরিয়া বলেন, গণিত ও বিজ্ঞানে আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন আন্তর্জাতিক মানে পিছিয়ে না থাকে, সে জন্য বছরভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড দরকার।
মালয়েশিয়ার মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় শিক্ষা-ভাবনা তৈরির প্রস্তাবও এসেছে বৈঠকে। সদস্যরা চান, সরকার বা মন্ত্রী বদলালেও শিক্ষানীতি, পাঠ্যক্রম আর পাঠ্যবইয়ের মূল কাঠামো যেন বারবার না বদলায়।
সভাপতি জানিয়েছেন, পরের বৈঠকগুলোতে আরও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ আসবে, সঙ্গে শিক্ষা খাতের একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপও।
তবে এগুলো এখনো কমিটির পরিকল্পনা ও সুপারিশ পর্যায়ে আছে। বৃত্তির আবেদন কীভাবে করতে হবে, টাকা কবে আসবে বা ল্যাপটপ কীভাবে মিলবে সেটা জানতে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা করতে হবে।