পুলিশের ঝুঁকি ভাতা গেজেট ২০২৬। নতুন হার ও পদভিত্তিক তালিকা
পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পুলিশের কনস্টেবল, নায়েক, এএসআই (সশস্ত্র ও নিরস্ত্র), এসআই, সার্জেন্ট এবং টিএসআই পদে কর্মরতদের ঝুঁকি ভাতা বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা কার্যত গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৫ সালের পর প্রায় দশ বছর পর পুলিশ সদস্যদের ঝুঁকি ভাতা বাড়লো। এই লেখায় পুলিশের ঝুঁকি ভাতা গেজেটের বিস্তারিত বিশ্লেষণ, পদ অনুযায়ী নতুন ভাতার হার, পুরনো ও নতুন হারের তুলনা এবং শর্তাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা প্রতিনিয়ত নানা প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্ব পালন করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস দমন, মাদকবিরোধী অভিযান ও নিত্যদিনের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় তাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তাদের এই আত্মত্যাগ ও পেশাগত ঝুঁকির কিছুটা মূল্যায়ন হিসেবে সরকার এই ভাতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন এই গেজেট অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চাকরির মেয়াদভেদে ভাতার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
পুলিশের ঝুঁকি ভাতা গেজেট কি এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পুলিশের ঝুঁকি ভাতা গেজেট হলো বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা একটি সরকারি দলিল, যেখানে পুলিশের বিভিন্ন পদের কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে প্রদেয় মাসিক ভাতার নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গেজেট বলতে কোনো আইন বা প্রজ্ঞাপন সরকারিভাবে প্রকাশের স্বীকৃত মাধ্যমকে বোঝায়। ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই তারিখে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় এবং তা তখনই কার্যকর হয়।
এই গেজেটের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এর মাধ্যমেই পুলিশ সদস্যরা তাদের মাসিক বেতনের সঙ্গে অতিরিক্ত ভাতা পাওয়ার অধিকারী হন। বিশেষ করে যারা সীমান্ত এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল বা সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের মতো উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, তাদের জন্য এই ভাতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়া অবসরপ্রাপ্তির সময় পেনশন গণনায় এই ভাতা ভূমিকা রাখে কিনা তাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নতুন গেজেটের মূল বার্তা হলো—পুলিশের নিম্ন ও মধ্যম পর্যায়ের পদগুলোতে ঝুঁকি ভাতার নতুন হার তিন শত টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ এক হাজার আশি টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে চাকরির মেয়াদ ও পদভেদে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ভিন্ন। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ৩০ জুন বা তার আগে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা পুরনো যে পরিমাণ ঝুঁকি ভাতা পেতেন, সেখানে যুক্ত হয়েছে নতুন এই টাকার অংক।
পুলিশের ঝুঁকি ভাতা গেজেট ২০২৬: পদ ও চাকরির মেয়াদভিত্তিক তালিকা
নিচে পুলিশের কনস্টেবল, নায়েক, এএসআই এবং এসআই/সার্জেন্ট/টিএসআই পদে চাকরির মেয়াদ অনুযায়ী পুরনো ও নতুন ঝুঁকি ভাতার হার বিশদভাবে টেবিল আকারে দেওয়া হলো। এই তথ্য সরাসরি ২০২৫ সালের গেজেট নং-০৭.০০.০০০০.১৭৪.৪২.০০৪.২৩-৮১ থেকে নেওয়া হয়েছে।
| পদের নাম | চাকরির মেয়াদ | পূর্বের ভাতার পরিমাণ (টাকা) | বৃদ্ধির পরিমাণ (টাকা) | বর্তমান ভাতা (টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| কনস্টেবল | ০-৫ বছর | ১,৫০০ | ৩০০ | ১,৮০০ |
| ৫-১০ বছর | ১,৮০০ | ৩৬০ | ২,১৬০ | |
| ১০-১৫ বছর | ২,২০০ | ৪৪০ | ২,৬৪০ | |
| ১৫-২০ বছর | ২,৫০০ | ৫০০ | ৩,০০০ | |
| ২০+ বছর | ৩,০০০ | ৬০০ | ৩,৬০০ | |
| নায়েক | ০-৫ বছর | ১,৭০০ | ৩৪০ | ২,০৪০ |
| ৫-১০ বছর | ২,০০০ | ৪০০ | ২,৪০০ | |
| ১০-১৫ বছর | ২,৪০০ | ৪৮০ | ২,৮৮০ | |
| ১৫-২০ বছর | ২,৯০০ | ৫৮০ | ৩,৪৮০ | |
| ২০+ বছর | ৩,৪০০ | ৬৮০ | ৪,০৮০ | |
| এএসআই (সশস্ত্র/নিরস্ত্র) | ০-৫ বছর | ১,৮০০ | ৩৬০ | ২,১৬০ |
| ৫-১০ বছর | ২,২০০ | ৪৪০ | ২,৬৪০ | |
| ১০-১৫ বছর | ২,৭০০ | ৫৪০ | ৩,২৪০ | |
| ১৫-২০ বছর | ৩,২০০ | ৬৪০ | ৩,৮৪০ | |
| ২০+ বছর | ৩,৮০০ | ৭৬০ | ৪,৫৬০ | |
| এসআই, সার্জেন্ট, টিএসআই | ০-৫ বছর | ২,৭০০ | ৫৪০ | ৩,২৪০ |
| ৫-১০ বছর | ৩,২০০ | ৬৪০ | ৩,৮৪০ | |
| ১০-১৫ বছর | ৩,৮০০ | ৭৬০ | ৪,৫৬০ | |
| ১৫-২০ বছর | ৪,৫০০ | ৯০০ | ৫,৪০০ | |
| ২০+ বছর | ৫,৪০০ | ১,০৮০ | ৬,৪৮০ |
টেবিল থেকে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, যত চাকরির মেয়াদ বেশি, তত ঝুঁকি ভাতাও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে এসআই, সার্জেন্ট ও টিএসআই পদের ২০ বছরের উর্ধ্বে কর্মরতরা সর্বোচ্চ ৬,৪৮০ টাকা পাচ্ছেন, যা পূর্বে ছিল ৫,৪০০ টাকা। কনস্টেবলদের সর্বনিম্ন বেতনেও ভাতার যে পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে, তা তাদের মাসিক আয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গেজেটে উল্লিখিত শর্তাবলি ও বাস্তবতা
২০২৫ সালের গেজেটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যদের বিষয়গুলো জানা আবশ্যক। নিচে সহজ ভাষায় সেগুলো ব্যাখ্যা করা হলোঃ
শর্ত-১: কার্যকারিতা ও পূর্ববর্তী প্রজ্ঞাপনের প্রাসঙ্গিকতা
নতুন এই আদেশ ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল ও তৎসংক্রান্ত সময়ের পূর্বের প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর হবে। বলতে গেলে, ২০১৫ সালের ১৮ অক্টোবরে জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের (৮০ নং স্মারক) পরিবর্তন হিসেবেই এই নতুন ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শর্ত-২: ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চাকরিকাল বিবেচ্য
গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, ভাতা নির্ধারণের জন্য কর্মচারীর চাকরির মেয়াদ গণনার সীমা ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হবে। অর্থাৎ কোনো পুলিশ সদস্য যদি ২০১০ সালে যোগ দেন, তাহলে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মেয়াদ গণনা করে মেয়াদভিত্তিক ভাতা নির্ধারণ করা হবে। তবে যারা ২০১৫ সালের পর যোগ দিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে যোগদানের পরবর্তী মেয়াদ অনুযায়ী ভাতা নির্ধারিত হয়।
শর্ত-৩: পরবর্তী জাতীয় বেতন কমিশনে ভাতা অপরিবর্তিত থাকবে
গেজেটের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, পরবর্তী জাতীয় বেতন কাঠামো (নবম বেতন স্কেল) কার্যকর হলেও পুরনো ও নতুন ঝুঁকি ভাতার এই পরিমাণ কোনোভাবেই কমানো বা বাড়ানো যাবে না। অর্থাৎ ২০২৬ ও ভবিষ্যতের জাতীয় বেতন কমিশনের সময় এই ভাতার হার রেফারেন্স হিসেবে অপরিবর্তিত থাকবে।
বাংলাদেশ পুলিশের ঝুঁকি ভাতা নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন ১: পুলিশের ঝুঁকি ভাতা গেজেট কবে কার্যকর হয়েছে?
উত্তর: গেজেটটি ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই জারি করা হয়েছে এবং সেদিন থেকেই তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। সাধারণত ব্যাংকিং চ্যানেলে ভাতা দিতে কিছুটা সময় লাগে, তবে কার্যকারী তারিখ হলো ২৮ জুলাই, ২০২৫।
প্রশ্ন ২: কনস্টেবলদের মাসিক ঝুঁকি ভাতা কত টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে?
উত্তর: কনস্টেবলদের ক্ষেত্রে চাকরির মেয়াদ ০-৫ বছর পর্যন্ত মাসিক ঝুঁকি ভাতা ১,৮০০ টাকা। ৫-১০ বছর পর্যন্ত ২,১৬০ টাকা, ১০-১৫ বছর পর্যন্ত ২,৬৪০ টাকা, ১৫-২০ বছর পর্যন্ত ৩,০০০ টাকা এবং ২০ বছরের উর্ধ্বে ৩,৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রশ্ন ৩: নায়েক ও এএসআই পদের মধ্যে ভাতার হারে পার্থক্য কী?
উত্তর: নায়েক পদের ন্যূনতম ভাতা ২,০৪০ টাকা (০-৫ বছর) থেকে সর্বোচ্চ ৪,০৮০ টাকা (২০+ বছর)। অন্যদিকে এএসআই পদের সর্বনিম্ন ভাতা ২,১৬০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪,৫৬০ টাকা। প্রতিটি মেয়াদেই এএসআই পদে ভাতার পরিমাণ প্রায় ১২০-২০০ টাকা বেশি।
প্রশ্ন ৪: ভাতার এই বাড়া কি বেতনের শতাংশ হিসেবে হিসাব করা হয়?
উত্তর: বর্তমান গেজেটে টাকার অংক নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে জাতীয় বেতন কাঠামো পরিবর্তিত হলে এই নির্দিষ্ট টাকার পরিবর্তে বেতনের শতাংশ হিসেবেও হার নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে প্রজ্ঞাপনে ইঙ্গিত রয়েছে।
প্রশ্ন ৫: বিপদজনক এলাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা কি অতিরিক্ত ভাতা পাবেন?
উত্তর: মূল ঝুঁকি ভাতা পুলিশের সব সদস্যের জন্যই। তবে পৃথকভাবে কঠিন এলাকা ভাতা (hard area allowance) এর বিধান আছে। নতুন গেজেটে সেটি স্পষ্ট নয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন থেকে আলাদা ব্যবস্থা আছে।
প্রশ্ন ৬: ২০১৫ সালের আগে চাকরিতে যোগদানকারী এবং ২০১৫ সালের পর যোগদানকারীদের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য?
উত্তর: গেজেটের শর্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চাকরিকাল যাদের মেয়াদ গোনা হবে। পরবর্তী চাকরিকালের জন্য তাদের যোগদানের সুনির্দিষ্ট বছর অনুযায়ী প্রযোজ্য নির্দেশিকা আছে। তবে ২০১৫ সালের পর যোগদানকারীরাও তাদের বর্তমান চাকরির মেয়াদের কারণে এই ভাতার আওতায় পড়বেন।
প্রশ্ন ৭: এই ঝুঁকি ভাতা থেকে কর কাটা হবে?
উত্তর: সাধারণত সরকারি ভাতার ওপর উৎস কর কর্তনের বিধি আছে, তবে ঝুঁকি ভাতার সম্পূর্ণ বা আংশিক করমুক্তির বিষয়টি করদাতার বেতন স্কেল ও বার্ষিক আয়ের ওপর নির্ভর করে। সরাসরি ভাতার পুরোটা করমুক্ত নয়, আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করতে হবে।
প্রশ্ন ৮: অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরাও কি নতুন ভাতা পাবেন?
উত্তর: গেজেটটি চাকুরীরত কর্মকর্তা ও সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য। অবসরপ্রাপ্ত সদস্যরা নতুন এই হার পাবেন না, তবে তাদের পেনশন পুনঃগণনা যদি হয়, তবে তা ভিন্ন প্রজ্ঞাপনে হতে পারে।
প্রশ্ন ৯: এসআই, সার্জেন্ট ও টিএসআই পদগুলোর সর্বোচ্চ ঝুঁকি ভাতার পরিমাণ কত?
উত্তর: এসআই, সার্জেন্ট ও টিএসআই পদের ২০ বছরের উর্ধ্বে কর্মরতদের জন্য সর্বোচ্চ মাসিক ঝুঁকি ভাতা ৬,৪৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে এটি ছিল ৫,৪০০ টাকা।
প্রশ্ন ১০: গেজেটটি কোথায় পাওয়া যাবে ও এর বৈধতা কতদিন?
উত্তর: অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (www.mof.gov.bd) এবং বাংলাদেশ ফরমস্ প্রকাশনী থেকে এই গেজেট সংগ্রহ করা যাবে। যতদিন না নতুন কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হচ্ছে, ততদিন এই ভাতার হার বলবৎ থাকবে।
পুলিশ সদস্যদের করণীয় ও সচেতনতা
যারা পুলিশে কর্মরত আছেন, তাদের সবার উচিত নিজ নিজ শাখা অফিসে যোগাযোগ করে ঝুঁকি ভাতা সংক্রান্ত আপডেট তথ্য জেনে নেওয়া। কেউ কেউ হয়তো এখনো নিয়মিত ভাতা পাচ্ছেন, কিন্তু নতুন গেজেট অনুযায়ী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতা জমা হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কোনো বিলম্ব বা হিসাবের ত্রুটি দেখা দিলে সরাসরি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় অথবা অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রবিধি শাখার ফোন (প্রজ্ঞাপনে ৫৫১০০০৮৩ উল্লেখ করা হয়েছে) মাধ্যমে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
এই গেজেটের সঠিক বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ হলো—বিভাগীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে সবার মেয়াদভিত্তিক হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করা। ২০ বছরের বেশি চাকরিজীবী সদস্য এবং নিম্নবেতন স্কেলের কনস্টেবল ও নায়েকরা মূলত এই ভাতা বৃদ্ধির সুবিধা বেশি পাবেন। দায়িত্বের গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা পুলিশ বাহিনীর মনোবল বাড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করা যায়।